Tathyojora.news রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়ার অনুমতি, গ্রিডে বিদ্যুৎ আসতে পারে ডিসেম্বরে - Tathyojora.news

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়ার অনুমতি, গ্রিডে বিদ্যুৎ আসতে পারে ডিসেম্বরে


নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ৮, ২০২৬, ১০:৪৫ PM
রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়ার অনুমতি, গ্রিডে বিদ্যুৎ আসতে পারে ডিসেম্বরে

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেয়েছে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত পরবর্তী ধাপের লাইসেন্স দিয়েছে। এর ফলে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি ধাপ সম্পন্ন হলো।

কেন্দ্রটির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অনুমোদনের পর শুক্রবার থেকেই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে চুল্লিতে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হতে পারে। চলতি মাসের শেষ নাগাদ চুল্লিপাত্রের ভেতরে তাপশক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়াও শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে পারমাণবিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়া সেপ্টেম্বরে শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষায় ত্রুটি ধরা পড়ায় তা পিছিয়ে যায়। পরে গত সপ্তাহে উচ্চ চাপে দুই দফায় নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। পরীক্ষার ফলাফল বায়েরার কাছে জমা দেওয়ার পর সংস্থাটি তা যাচাই করে অনুমোদন দেয়।

বায়েরা চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি যাচাই করেই রূপপুর প্রকল্পের প্রতিটি ধাপের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পরবর্তী ধাপের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষায় নিয়ন্ত্রণ ভালভগুলো নির্ধারিতভাবে কাজ করছে কি না, সেটিই মূলত যাচাই করা হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর আগে অগ্নিনিরাপত্তা ও তেজস্ক্রিয়তা-সংক্রান্ত নিরাপত্তাব্যবস্থাও পরীক্ষা করা হয়। চুল্লির ভেতরে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে তা নিয়ন্ত্রণ করে নিরাপদ মাত্রায় রাখার ক্ষেত্রে এসব ভালভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর পর রূপপুর প্রকল্পের সামনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হবে ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’। এ পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে ও পরে চুল্লির বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ করতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে চুল্লির শক্তি উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হবে।

পারমাণবিক জ্বালানির বিভাজন বিক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপন্ন তাপ কাজে লাগিয়ে বাষ্প তৈরি করা হবে। সেই বাষ্পের সাহায্যে টারবাইন ঘুরিয়ে উৎপাদন করা হবে বিদ্যুৎ।

কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চুল্লির শক্তি উৎপাদন ক্ষমতা প্রথমে ৩ শতাংশ থেকে পর্যায়ক্রমে ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এই পর্যায়ে পৌঁছালে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। প্রথম ইউনিট থেকে প্রাথমিকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা আগামী ডিসেম্বরে হতে পারে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরুর পর টানা সাত থেকে আট মাস এই কার্যক্রম চলতে পারে। জাতীয় গ্রিডে রূপপুরের বিদ্যুৎ যুক্ত হলেই বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় ৩৩তম অবস্থানে যাবে।

এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় পারমাণবিক জ্বালানি পৌঁছানোর পর কেন্দ্রটি পারমাণবিক স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। জ্বালানি গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশও পারমাণবিক শক্তির অধিকারী দেশের তালিকায় যুক্ত হয়।

রূপপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ২৪ ঘণ্টা সমান হারে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতি দেড় বছর পর চুল্লিতে নতুন জ্বালানি দেওয়ার প্রয়োজন হবে। জ্বালানি বর্জ্য অপসারণ, নতুন জ্বালানি সংযোজন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ মিলিয়ে একটি ইউনিট সর্বোচ্চ দুই মাস বন্ধ থাকতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের হিসাবে, রূপপুরের একটি ইউনিট চালু হলে বছরে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের জ্বালানি আমদানি সাশ্রয় হতে পারে। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়াটি নির্ধারিত সময়ের তুলনায় প্রায় সাড়ে তিন বছর পিছিয়ে গেছে।

রূপপুর প্রকল্পের মূল মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরে দুই দফায় সময় বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী সময় বাড়লেও প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর সুযোগ নেই। তবে ডলারের বিনিময়মূল্য বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পের খরচ প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে।

বর্তমানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা। প্রকল্পটিতে দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট।