
কাশিনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও কাশিনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস আলী মুন্সির বিরুদ্ধে জাল সার্টিফিকেট ব্যবহার করে কাশিনাথপুর আব্দুল লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী কাশিনাথপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা তানজিম চৌধুরী বিষয়টি তদন্তের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড রাজশাহীর চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এবিষয়ে অতিদ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের নিমিত্তে অভিযোগ পত্রে নিজের সাক্ষর ও সীল সংযুক্ত করেন পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন।
অভিযোগকারী বলেন, কাশিনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী মুন্সি নিজের বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘদিন যাবৎ সভাপতির দ্বায়িত্বে থাকাকালীন নানাবিধ অনিয়ম করে আসছে।ইতিপূর্বে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি পদের জন্য কোন শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারিত না থাকায় তিনি এককভাবে দ্বায়িত্ব পালন করেছেন।শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি পদের জন্য স্নাতক ও সমমানের ডিগ্রি নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করায় বিপাকে পড়েন তিনি।
নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকায় স্নাতক পাশের জাল সনদ বা সার্টিফিকেট জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে কাশিনাথপুর আব্দুল লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি প্রার্থী হিসেবে নিজের জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন সাবেক এই চেয়ারম্যান যা সম্পুর্ন আইন বিরোধী। অভিযোগটি আমলে নিয়ে অনতিবিলম্বে অভিযুক্ত ইদ্রিস আলী মুন্সির স্নাতক পাশের সনদ যাচাই-বাছাই পুর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড রাজশাহীর চেয়ারম্যান বরাবর করা অভিযোগ পত্রের অনুলিপি পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যরিস্টার নাজিবুর রহমান,পাবনা জেলা প্রশাসক, সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কাশিনাথপুর আব্দুল লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিয়ার রহমানকে প্রদান করেছেন অভিযোগকারী তানজিম চৌধুরী। অভিযোগের বিষয়টি আমলে নিয়ে কর্তৃপক্ষকে তদন্ত সাপেক্ষে অতিদ্রুত বিষয়টি সমাধান করার অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এবিষয়ে কাশিনাথপুর আব্দুল লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিয়ার রহমান বলেন, আমরা কোন অনুলিপি পাই নি, লোক মুখে অভিযোগের কথা শুনেছি।অভিযোগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে কর্তৃপক্ষ।এছাড়াও সভাপতি পদের জন্য কারও নাম প্রস্তাব না করার কথা জানান তিনি।
এবিষয়ে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিজু তামান্না বলেন, অভিযোগকারী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড রাজশাহীর চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ করেছেন। আমাকে যদি বোর্ড থেকে তদন্তের দ্বায়িত্ব প্রদান করে আমি তা যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করবো।
অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ইদ্রিস আলী মুন্সি বলেন, আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ মিথ্যা। আমার সার্টিফিকেট সম্পুর্ন জিনুইন।কর্তৃপক্ষ তদন্ত করলে সবকিছু পরিস্কার হয়ে যাবে।
আপনার মতামত লিখুন :