Tathyojora.news কালশী বাউনিয়া বাঁধে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে উত্তেজনা, প্রশ্ন করায় সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের হামলা - Tathyojora.news

কালশী বাউনিয়া বাঁধে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে উত্তেজনা, প্রশ্ন করায় সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের হামলা


নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২০, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
কালশী বাউনিয়া বাঁধে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে উত্তেজনা, প্রশ্ন করায় সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের হামলা

রাজধানীর মিরপুরের কালশী বাউনিয়া বাঁধ এলাকায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত কর্তৃপক্ষের উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে সংবাদ সংগ্রহের সময় দুই সাংবাদিকের ওপর পুলিশের হামলার অভিযোগ উঠেছে।

(বুধবার ২০ মে) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। ফেসবুক লাইভে ঘটনাস্থল থেকে তথ্য সংগ্রহের সময় সাংবাদিকরা হামলার শিকার হন।

হামলার শিকার দুই সাংবাদিক হলেন – বাংলাদেশ প্রতিদিন ডিজিটালের সিনিয়র রিপোর্টার নেহাল আহমেদ প্রান্ত এবং বাংলাদেশ টাইমসের স্টাফ রিপোর্টার তাসবির ইকবাল।

স্থানীয়দের ক্ষোভ
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত কর্তৃপক্ষের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে কালশীর বাউনিয়া বাঁধ এলাকায় বিকেলে আকস্মিকভাবে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।

কোনো পূর্ব নোটিশ বা সতর্কবার্তা ছাড়াই বুলডোজার দিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙা শুরু হলে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার বাসিন্দার মধ্যে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে।

পরবর্তীতে উচ্ছেদকারী দল ও পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের অভিযোগ, বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সংবাদ সংগ্রহ ও ফেসবুক লাইভ চলাকালে তারা আকস্মিক উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রশ্ন তোলেন।

তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, “কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়া কেন এভাবে উচ্ছেদ চালানো হচ্ছে”- এ প্রশ্ন করার পরই দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

এরপর সাংবাদিক নেহাল আহমেদ প্রান্তকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে সাংবাদিক তাসবির ইকবালকেও মারধরের শিকার হতে হয় বলে জানা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ফেসবুক লাইভ চলমান অবস্থাতেই দুই সাংবাদিককে মারধর করা হয় এবং তাদের মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

ঘটনার পর বাংলাদেশ অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিওজেএ) এক বিবৃতিতে হামলার তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক ফয়সাল ইমরান স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় এ ধরনের হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশ ও প্রশ্ন করার অধিকার সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্বের অংশ। প্রশাসনের উপস্থিতিতে এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বিওজেএ কেন্দ্রীয় কমিটি হামলার সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি দাবি পূরণ না হলে সাংবাদিক সমাজ কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যম অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।