Tathyojora.news জিয়া হত্যা মামলার পলাতক আসামি মেজর মোজাফফরের বিচার হবে সেনা আইনে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী - Tathyojora.news

জিয়া হত্যা মামলার পলাতক আসামি মেজর মোজাফফরের বিচার হবে সেনা আইনে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ২০, ২০২৬, ৬:৩৫ PM
জিয়া হত্যা মামলার পলাতক আসামি মেজর মোজাফফরের বিচার হবে সেনা আইনে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন পলাতক থাকা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের বিচার বর্তমান সেনা আইন (মিলিটারি অ্যাক্ট) অনুযায়ী সম্পন্ন হবে। একই সঙ্গে তিনি দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

রোববার (২০ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের আশরাফ হলে বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও দরবার শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

জিয়া হত্যা মামলার বিচার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের মূল বিচার সে সময় সামরিক আদালতের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছিল এবং আদালতের সুস্পষ্ট সিদ্ধান্তও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পার্শ্ববর্তী একটি দেশে ভিন্ন পরিচয়ে আত্মগোপনে থাকা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতারের পর সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জেনারেল কোর্ট মার্শাল (General Court Martial) গঠনের মাধ্যমে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তার বিচার সম্পন্ন হবে।

তিনি আরও বলেন, একই অপরাধে কাউকে পৃথকভাবে দেওয়ানি আইন ও সামরিক আইনে বিচার করার সুযোগ নেই। সে কারণে এই মামলার বিচার সেনা আইনেই শেষ করা হবে।

সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা সুদৃঢ় করা এবং সীমান্ত সুরক্ষাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। মিয়ানমার সীমান্তের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিজিবির প্রস্তাবের ভিত্তিতে ১০৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়, প্রস্তাব পর্যায়েই রয়েছে।

তিনি জানান, সীমান্ত এলাকায় ল্যান্ডমাইনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিজিবিকে আধুনিক মাইন শনাক্তকরণ (ডিটেকশন) যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে।

মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশটির সরকারি বাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী-আরএসও ও আরসার সংঘাত চলমান রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ সীমান্তও এর প্রভাবের মুখে পড়ছে। সীমান্তে ওপার থেকে ছিটকে আসা গোলাগুলি এবং মাদকের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে। ভারতের সঙ্গে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং মিয়ানমার সীমান্তের বাস্তবতা ভিন্ন হওয়ায় মিয়ানমার সীমান্তকে আরও কার্যকরভাবে সুরক্ষিত করা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ভারত থেকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। বিজিবি ও সীমান্তবর্তী এলাকার স্থানীয় জনগণের সমন্বিত সতর্কতার ফলে প্রতিটি পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থেকে এ ধরনের প্রচারণা চালানো হতে পারে, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবসময় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বজায় রাখে। যদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা পাঠানো হয়, তাহলে জাতীয়তা যাচাই শেষে আইন অনুযায়ী তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এর বাইরে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ গ্রহণযোগ্য নয়।

এ সময় বিজিবির সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাহিনীর জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক সরঞ্জাম ও যানবাহন সংগ্রহ, নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ এবং বিজিবি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় দ্রুত সমাধানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে।