Tathyojora.news দুদকের মামলা, তবুও বহাল তবিয়তে ঢাকা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বাচ্চু মিয়া - Tathyojora.news

দুদকের মামলা, তবুও বহাল তবিয়তে ঢাকা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বাচ্চু মিয়া


নিজস্ব প্রতিবেদক নভেম্বর ৩, ২০২৫, ৭:৩১ PM
দুদকের মামলা, তবুও বহাল তবিয়তে ঢাকা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বাচ্চু মিয়া

রাজধানীর গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ না করেই সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা দায়ের করেছে ঢাকা জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ বাচ্চু মিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে। তবে মামলার পরও নির্বাহী প্রকৌশলী বাচ্চু মিয়া বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন, যা নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

দুদকের মামলায় বাচ্চু মিয়ার পাশাপাশি সিনিয়র প্রকৌশলী ছাবের আলী, উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শামস জাভেদ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নির্মাণ প্রকৌশলীর মালিক আবু সাইদ খানকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পরও তারা কেউই এখনো গ্রেপ্তার হননি বা প্রশাসনিক কোনো পদক্ষেপের মুখোমুখি হননি।

দুদকের অভিযোগ:

দুদকের মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নির্বাহী প্রকৌশলী বাচ্চু মিয়া ও অন্যান্য আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রতারণার মাধ্যমে গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় ও ৪র্থ তলার কাজ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলন করেন। এভাবে তারা ১ কোটি ২২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৬ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে দুদকের তদন্তে প্রমাণ পাওয়া যায়।

এই ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা অনুসারে মামলা দায়ের করা হয়। গত মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুদকের সহকারী পরিচালক স্বপন কুমার রায় বাদী হয়ে ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

ক্ষমতার জোরেই টিকে আছেন ঢাকা জেলা এলজিইডির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,

নির্বাহী প্রকৌশলী বাচ্চু স্যারের অনেক প্রভাব-প্রতিপত্তি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাই কেউ তাঁর বিরুদ্ধে কিছু করতে পারে না।

তিনি আরও জানান, মামলার পর কয়েকদিন অফিসে না এলেও বর্তমানে বাচ্চু মিয়া সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অফিস করেন।

আরেক কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন,

দুদকের মামলার পর থেকে আমরা তাঁর অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করছি না। এতে তিনি আমাদের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে প্রায় সময় অফিসে খারাপ ব্যবহার করছেন।

অভিযুক্তদের নীরবতা

অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ বাচ্চু মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
একইভাবে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিমের মুঠোফোনেও একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও অনিয়মের অভিযোগ
দুদকের মামলার বাইরেও নির্বাহী প্রকৌশলী বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, চাঁদাবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রকল্পের কাজে স্থবিরতা সৃষ্টির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি তাঁর আপন ভাই মো. শহিদুল ইসলাম (সুমন)-এর ট্রেড লাইসেন্সের বিপরীতে এলজিইডির দুটি তালিকাভুক্ত লাইসেন্স করে দিয়েছেন – যা সরকারি নিয়মবহির্ভূত।
এই দুই লাইসেন্সের একটি মাহমুদ এন্টারপ্রাইজ’ নামে এবং অন্যটি তাঁর মেয়ের নামে মোহনা এন্টারপ্রাইজ নামে নিবন্ধিত।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একজন ব্যক্তি কেবল একটি তালিকাভুক্তি করতে পারেন। কিন্তু বাচ্চু মিয়া নিজের প্রভাব খাটিয়ে দুটি অনুমোদন আদায় করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মাহমুদ এন্টারপ্রাইজ-এর নামে অফিস ভবন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ না করেই প্রায় ৪৮.৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন এবং মোহনা এন্টারপ্রাইজ-এর নামে ৩.৯৮ লাখ টাকার কাজ নিজেই অনুমোদন দিয়েছেন।

জনমনে প্রশ্ন

দুদকের মামলার পরও অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কিংবা এলজিইডি কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে- দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পরও কেন বহাল তবিয়তে আছেন অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী?