Tathyojora.news খালেদা জিয়ার কারামুক্তি দিবসে ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের শ্রদ্ধা - Tathyojora.news

খালেদা জিয়ার কারামুক্তি দিবসে ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের শ্রদ্ধা


নিজস্ব প্রতিবেদক সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ৩:৫৬ AM
খালেদা জিয়ার কারামুক্তি দিবসে ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের শ্রদ্ধা

বিএনপি চেয়ারপারসন, সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৩৭২ দিনের রাজবন্দী কারাবাস শেষে কারামুক্তির ১৯তম বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর কারামুক্ত হয়ে তিনি দেশের আপামর মানুষের মাঝে ফিরে আসেন।

কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জিয়া উদ্যানে ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন, কবর জিয়ারত, দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। এ সময় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর মাগফিরাত কামনা করেন।

ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদারের নেতৃত্বে আয়োজিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মিছবাউর রহমান, তোফায়েল আহমেদ রনি, আবু হানিফা, আবু সাইদ নুর ও মোজাফফর আহমদসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এ সময় মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার বলেন, “লৌহমানবী” দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াই গণতন্ত্রের আপসহীন সংগ্রামের অনন্য প্রতিচ্ছবি। তিনি একজন বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। আপসহীন রাজনীতিবিদ ও সফল রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দেশের রাজনীতিতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। তাঁর রাজনৈতিক জীবন ও গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ সংগ্রাম তাঁকে দেশের মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত করেছে।

তিনি বলেন, ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে তা স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে আপসের শামিল হতো। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া সেই পথে যাননি। বরং স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিরতিহীনভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কারণে তিনি ‘লৌহমানবী’ ও ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার আরও বলেন, ভয়-ভীতি ও প্রলোভন উপেক্ষা করে স্বৈরতন্ত্রের পতনের জন্য বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের মানুষকে আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এরশাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর সাহসী ভূমিকা এবং পরবর্তীতে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল অনন্য দৃষ্টান্ত।

তাঁর ভাষ্য, আন্দোলনের কঠিন সময়েও বেগম খালেদা জিয়া সংগ্রামের পথ থেকে সরে যাননি। অন্যায়, অনিয়ম ও অবিচারের বিরুদ্ধে তিনি একটি শক্তিশালী প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন। দেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতেও তিনি ছিলেন ঐক্যের প্রতীক। দেশের আপামর মানুষ তাঁকে ‘আপসহীন দেশনেত্রী’ হিসেবে সম্মানিত করেছেন।

মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার বলেন, একসময় সাধারণ গৃহকর্মী হিসেবে পরিচিত বেগম খালেদা জিয়া সময়ের প্রয়োজনে ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। পরবর্তীতে তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ৩৭২ দিনের রাজবন্দী জীবন এবং কারামুক্তির এই দিনটি প্রতিবছরই তাঁর রাজনৈতিক সংগ্রামের স্মৃতি সামনে নিয়ে আসবে। আজ তিনি আমাদের মাঝে শারীরিকভাবে নেই। মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি পরপারে চলে গেছেন। তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রাম ও দেশের মানুষের ভালোবাসার মধ্য দিয়ে তিনি আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

শেষে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার বলেন, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সুউচ্চ মাকাম দান করেন। আমিন।