Tathyojora.news দ্রুত কমবে লোডশেডিং, দেড়-দুই বছরের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের আশা - Tathyojora.news

দ্রুত কমবে লোডশেডিং, দেড়-দুই বছরের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের আশা


নিজস্ব প্রতিবেদক সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ৭:৪২ PM
দ্রুত কমবে লোডশেডিং, দেড়-দুই বছরের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের আশা

সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারের চলমান বিভিন্ন উদ্যোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি, সার মজুত, সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিদেশে কর্মসংস্থান এবং গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, দেশে বর্তমানে যে লোডশেডিং চলছে তা খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। জ্বালানি ঘাটতি, বিদ্যুৎকেন্দ্রের যান্ত্রিক ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণ, সঞ্চালন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়াকে বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

শহর ও গ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহের বৈষম্য প্রসঙ্গে তিনি জানান, আগের মতো শুধু গ্রামাঞ্চলে বেশি লোডশেডিং দিয়ে শহরের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার নীতি থেকে সরে এসে সংকটের চাপ তুলনামূলকভাবে সুষমভাবে বণ্টনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধি, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালু এবং ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার মতো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে শহর ও গ্রামে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

সারের মজুত নিয়েও আশ্বস্ত করেন তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা। তিনি বলেন, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বর্তমানে দেশে সারের মজুত বেশি রয়েছে। ফলে সারের সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই বলেও জানান তিনি।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে সবার বেতন দ্বিগুণ হয়ে যাবে-বিষয়টি এমন নয়। তবে বেতন বাড়ানোর ফলে মূল্যস্ফীতির ওপর কিছুটা চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের পর পুলিশ বাহিনী কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে এবং বাহিনীর সক্ষমতা ও মনোবলের ওপরও এর প্রভাব পড়েছে। বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পুলিশের সেই বাস্তবতাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিদেশে কর্মসংস্থানের বিষয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় প্রায় দুই লাখ কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০ হাজার কর্মীকে বিনা খরচে পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ ছাড়া চীনের জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা, গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরি ও জীবিকার নিশ্চয়তা এবং নতুন ওয়েজ বোর্ড নিয়ে সরকারের উদ্যোগের বিষয়েও সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা।

সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি জানান, চলমান উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিদ্যুৎ, কর্মসংস্থান, কৃষি, আইনশৃঙ্খলা ও গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিস্থিতির উন্নতি করার চেষ্টা করছে সরকার।