
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাম্প্রতিক অভিযোগের সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার কোনো মিল নেই বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তাঁর অভিযোগ, একটি আদালতের রায় বাস্তবায়ন এবং পরবর্তী নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমকে দুর্নীতির অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল এবং পরবর্তীতে ১৫০ জনকে পদায়নের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুদকের অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এসব কথা বলেন আসিফ মাহমুদ।
তিনি জানান, ২০২১ সালে ১০ম গ্রেডের ১১২ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে কোনো পদোন্নতি ছাড়াই ৯ম গ্রেডের উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জ হলে ২০২৫ সালে আদালত সেটিকে অবৈধ ঘোষণা করেন।
আসিফ মাহমুদের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতের রায় ঘোষণার সময় ওই ১১২ জনের মধ্যে ৩৮ জন কর্মকর্তা এখনো চলতি দায়িত্বে ছিলেন। অন্যরা এরই মধ্যে অবসরে গিয়েছিলেন অথবা নিয়মিত পদোন্নতি পেয়েছিলেন। আদালতের নির্দেশনা অনুসারে ওই ৩৮ জনের চলতি দায়িত্ব বাতিল করে তাদের নিজস্ব ১০ম গ্রেডের পদে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এরপর শূন্য পদসহ ওই ৩৮টি পদে পদোন্নতির জন্য সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতামত চাওয়া হয় বলে জানান তিনি। এ সময় কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতার তালিকা, চাকরির রেকর্ড, এসিআরসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পিএসসিতে পাঠানো হয়।
আসিফ মাহমুদ বলেন, পিএসসি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় মন্ত্রণালয়ের নিজস্বভাবে কাউকে পদোন্নতি দেওয়ার সুযোগ নেই। জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে তালিকা তৈরি করে পিএসসি সুপারিশ করার পর সেই তালিকা অনুযায়ী মন্ত্রণালয় পদোন্নতির কার্যক্রম সম্পন্ন করে।
আদালতের রায় বাস্তবায়ন কিংবা পিএসসির পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় তাঁর ব্যক্তিগত কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, একটি প্রক্রিয়া আদালতের এবং অন্যটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পিএসসির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে আসিফ মাহমুদ বলেন, বিরোধী দলকে দমনের হাতিয়ার হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশনকে আবারও রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই বিএনপি সরকার দুদকের সংস্কার প্রক্রিয়া বাতিল করেছে।
এদিকে দুদকের মুখপাত্রের বক্তব্যের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে গণমাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষ্কার না করা হলে তিনি আইনি ব্যবস্থা নেবেন।
একই সঙ্গে অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সব নথি ও তথ্য যাচাই-বাছাই করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করারও আশ্বাস দেন আসিফ মাহমুদ।
আপনার মতামত লিখুন :