
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বিষয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলামকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জনি গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আসিফ মাহমুদের পক্ষে এ নোটিশ পাঠান।
নোটিশে বলা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে আখতারুল ইসলাম আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানান। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।
আইনি নোটিশে দাবি করা হয়েছে, কোনো তদন্তের চূড়ান্ত ফল বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশের আগেই দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার এমন বক্তব্যের কারণে আসিফ মাহমুদকে ঘিরে এক ধরনের মিডিয়া ট্রায়ালের পরিবেশ তৈরি হয়। এতে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়ে গেছে-জনমনে এমন ধারণা সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ তৈরি হয় এবং তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তবে পরে দুদক বিটের সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আখতারুল ইসলাম তাঁর দেওয়া বক্তব্যটি ভুলবশত হয়েছে বলে জানান। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের সময় ‘প্রাথমিক সত্যতা’ সংক্রান্ত অংশটি বাদ দেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ্যে দেওয়া বক্তব্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার কিংবা সংশোধন করা হয়নি বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তথ্যগত দিক নিয়েও নোটিশে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলের যে অভিযোগের সঙ্গে আসিফ মাহমুদকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে, বাস্তবে ১১২ জন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল। প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করে।
অন্যদিকে, ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির ঘটনাতেও আসিফ মাহমুদকে জড়ানোর বিষয়টি নোটিশে ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে।
নোটিশের তথ্য অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদ যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন ১০ ডিসেম্বর ২০২৫। আর সংশ্লিষ্ট পদোন্নতির ঘটনা ঘটে ১১ মে ২০২৬। অর্থাৎ, তাঁর পদত্যাগের প্রায় পাঁচ মাস পর ওই পদোন্নতি দেওয়া হয়। একই সময়ে বিএনপি সরকার গঠনেরও তিন মাস পার হয়েছিল।
এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আইনি নোটিশে আখতারুল ইসলামকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর বক্তব্য ১৫ দিনের মধ্যে একইভাবে ও নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাচাই করা এবং প্রমাণসমর্থিত তথ্য ছাড়া কোনো বক্তব্য না দেওয়ার জন্যও তাঁকে সতর্ক করা হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আখতারুল ইসলামের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারাসহ প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :