Tathyojora.news গাজী মাজহারুল আনোয়ারের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা, সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণের আহ্বান - Tathyojora.news

গাজী মাজহারুল আনোয়ারের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা, সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণের আহ্বান


তথ্যজোড়া ডেস্ক সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ১১:১৮ PM
গাজী মাজহারুল আনোয়ারের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা, সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণের আহ্বান

বাংলাদেশের কিংবদন্তি গীতিকার, চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার গাজী মাজহারুল আনোয়ারের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক স্মরণবার্তায় তিনি গাজী মাজহারুল আনোয়ারকে বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির অঙ্গনের একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে কিংবদন্তি এই শিল্পীর গান, কবিতা, চলচ্চিত্র, চিত্রনাট্যসহ অমর সৃষ্টিগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও আর্কাইভে রাখার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

স্মরণবার্তায় মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতির এমন কোনো অধ্যায় নেই, যেখানে গাজী মাজহারুল আনোয়ারের অবদান অনুপস্থিত। তাঁর মতো বিরল প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব কালে-ভদ্রে জন্ম নেন। তাঁর সৃষ্টিশীল কর্ম বাংলাদেশের সংগীত, চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছে।

তিনি বলেন, চার বছর পেরিয়ে গেলেও গাজী মাজহারুল আনোয়ারের শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলে গেলেও তাঁর সৃষ্টি মানুষের হৃদয়ে আজও জীবন্ত। তাঁর লেখা গান শুধু সুর ও শব্দের সমন্বয় নয়; এসব গানের মধ্যে মানুষের জীবন, ভালোবাসা, বেদনা, স্বপ্ন ও দেশপ্রেমের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।

মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার আরও বলেন, গাজী মাজহারুল আনোয়ার ছিলেন একজন কিংবদন্তি গীতিকার এবং একই সঙ্গে সফল চলচ্চিত্র প্রযোজক, পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে অসংখ্য কালজয়ী গান ও চলচ্চিত্র বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।

তিনি গাজী মাজহারুল আনোয়ারের সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, তাঁর লেখা গান, গীতিকবিতা, চলচ্চিত্র, চিত্রনাট্যসহ অন্যান্য সৃষ্টিকে যথাযথভাবে আর্কাইভে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। এসব সৃষ্টি শুধু একটি সময়ের সম্পদ নয়; এগুলো বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অমূল্য সম্পদ।

স্মরণবার্তায় গাজী মাজহারুল আনোয়ারের জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলা হয়, ১৯৪৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার দাউদকান্দিতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৬৪ সালে রেডিও পাকিস্তানের মাধ্যমে নিয়মিত গান লেখা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে গান রচনার পাশাপাশি গল্প, চিত্রনাট্য, সংলাপ, পরিচালনা ও প্রযোজনায় যুক্ত হন।

১৯৬৭ সালে ‘আয়না ও অবশিষ্ট’ চলচ্চিত্রের জন্য গান লেখার মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। ১৯৮২ সালে ‘নান্টু ঘটক’ চলচ্চিত্র পরিচালনার মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। দীর্ঘ কর্মজীবনে অসংখ্য চলচ্চিত্রে কাজ করার পাশাপাশি প্রায় ২০ হাজার গান রচনা করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়।

‘একতারা তুই দেশের কথা বল রে এবার বল’, ‘এক নদী রক্ত পেরিয়ে’, ‘আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল’, ‘গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে’, ‘আমার মন বলে তুমি আসবে’, ‘সাগরের তীর থেকে’ এবং ‘আমি রজনীগন্ধা ফুলের মতো’সহ তাঁর অসংখ্য গান বাংলা সংগীতের ভাণ্ডারে কালজয়ী হয়ে আছে।

শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গাজী মাজহারুল আনোয়ার একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কার ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা অর্জন করেন।

সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংগঠনের (জাসাস) সভাপতি এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

স্মরণবার্তায় মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার বলেন, গাজী মাজহারুল আনোয়ার শুধু একজন ব্যক্তি নন; তিনি বাংলাদেশের সংগীত, চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির ইতিহাসের একটি স্বর্ণালী অধ্যায়। তাঁর গান, চলচ্চিত্র ও সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন মানুষের মাঝে বেঁচে থাকবেন।

গাজী মাজহারুল আনোয়ারের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তিনি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন এবং মরহুমের কবরকে নূরের আলোয় পরিপূর্ণ করা ও তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করেন।

মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার
সভাপতি, ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন