Tathyojora.news ইসলামী ব্যাংকে নতুন করে অস্থিরতা চেয়ারম্যান-এমডির পদত্যাগে অনিশ্চয়তায় পর্ষদ, ক্ষোভে গ্রাহকরা - Tathyojora.news

ইসলামী ব্যাংকে নতুন করে অস্থিরতা চেয়ারম্যান-এমডির পদত্যাগে অনিশ্চয়তায় পর্ষদ, ক্ষোভে গ্রাহকরা


নিউজ ডেস্ক মে ২৪, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
ইসলামী ব্যাংকে নতুন করে অস্থিরতা চেয়ারম্যান-এমডির পদত্যাগে অনিশ্চয়তায় পর্ষদ, ক্ষোভে গ্রাহকরা

দেশের অন্যতম বৃহৎ শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এ আবারও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই অস্থিরতার মধ্যেই ব্যাংকটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জোবায়দুর রহমান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ওমর ফারুক খাঁন পদত্যাগ করেছেন। তাদের আকস্মিক সরে দাঁড়ানোর ঘটনায় ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ও প্রশাসনিক কাঠামোয় নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোববার (২৪ মে) দুপুরে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওমর ফারুক খাঁন চেয়ারম্যানের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে বিকেলে চেয়ারম্যান ড. জোবায়দুর রহমানও পদত্যাগ করেন। বিষয়টি সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক-এর সংশ্লিষ্ট সূত্র।

পদত্যাগের বিষয়ে গণমাধ্যমকে ওমর ফারুক খাঁন জানান, চেয়ারম্যানের ধারাবাহিক চাপের মুখে তিনি দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পদত্যাগপত্রটি পরিচালনা পর্ষদের সভায় উপস্থাপনের কথা থাকলেও নির্ধারিত বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় এবং চেয়ারম্যান নিজেও পদত্যাগ করায় বিষয়টি আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পায়নি।

এদিকে ব্যাংকে চলমান পরিস্থিতি ও কথিত হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে রোববার সকালে মতিঝিলে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে “ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম”। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা ব্যাংকের নিয়োগ ও পরিচালনায় রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি জানান।

মানববন্ধন থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- এমডিকে অপসারণ করা হলে চেয়ারম্যানকেও অপসারণ করতে হবে, দলীয় প্রভাব ও বেআইনি নিয়োগ বন্ধ করতে হবে, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে, এস আলম গ্রুপকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং গ্রাহকদের আমানতের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এবং গভর্নর হিসেবে মোস্তাকুর রহমান যোগ দেওয়ার পর ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যাংকটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়।

এর আগে অনলাইনে সভায় যুক্ত থাকার শর্তে চেয়ারম্যানকে প্রায় দেড় মাসের ছুটিতে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। একই সময়ে এমডি ওমর ফারুক খানকেও ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। গত ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় সেই ছুটি অনুমোদন করা হয়।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর গভর্নর থাকাকালে ড. এম জোবায়দুর রহমানকে ইসলামী ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরবর্তীতে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক গ্রুপটির প্রভাব কমিয়ে স্বতন্ত্র পরিচালকদের দায়িত্ব দেয়।

ব্যাংকটির আর্থিক সূচকেও বড় ধরনের অবনতি দেখা গেছে। বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ব্যাংকটির মুনাফা ছিল প্রায় ৪৪৭ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালে নেমে আসে ১৩৭ কোটি টাকায়। একই সময়ে খেলাপি ঋণের হার ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৪৯ শতাংশে। বর্তমানে ব্যাংকটির ৯২ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত।

অন্যদিকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার মালিকানাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ৬৩ শতাংশ থেকে কমে ২০২৬ সালের মার্চে তা দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ৯১ শতাংশে। একই সময়ে ব্যাংকের প্রায় ৮২ শতাংশ শেয়ারের সঙ্গে এস আলম সংশ্লিষ্টতা থাকার অভিযোগে সেগুলো জব্দ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

চেয়ারম্যান ও এমডির একযোগে পদত্যাগের পর ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ পরিচালনা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আমানতকারী ও সংশ্লিষ্ট মহলে।