Tathyojora.news রংপুরে বিদ্যুৎহীনতায় মোমবাতির আলোয় এসএসসি পরীক্ষা, কেন্দ্রসচিবের অবহেলা নিয়ে ইউএনওর মন্তব্য - Tathyojora.news

রংপুরে বিদ্যুৎহীনতায় মোমবাতির আলোয় এসএসসি পরীক্ষা, কেন্দ্রসচিবের অবহেলা নিয়ে ইউএনওর মন্তব্য


নিউজ ডেস্ক এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ
রংপুরে বিদ্যুৎহীনতায় মোমবাতির আলোয় এসএসসি পরীক্ষা, কেন্দ্রসচিবের অবহেলা নিয়ে ইউএনওর মন্তব্য

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে এক পরীক্ষাকেন্দ্রে মোমবাতির আলো ব্যবহার করে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ঘটনাটির জন্য কেন্দ্রসচিবের দায়িত্বে অবহেলাকে দায়ী করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে রবিবার (২৬ এপ্রিল) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার অংশ হিসেবে ইংরেজি প্রথম পত্র অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রটির ১৭টি কক্ষে মোট ৮৫৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়।

পরীক্ষার দিন সকাল থেকেই কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা অন্ধকারে মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিতে বাধ্য হয়। পরে ঝড়বৃষ্টি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

কেন্দ্রসচিব ও ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মাহেদুল আলম জানান, পরীক্ষার সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত থাকার কথা ছিল। তবে বিদ্যুৎ অফিসে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সমাধান পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে মোমবাতির আলো ব্যবহার করে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।

রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি–১-এর ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন খান জানান, কেন্দ্রটি বলদিপুকুর সাবস্টেশনের আওতাধীন রংপুর গ্রিড লাইনের সঙ্গে সংযুক্ত। ওই লাইনে আগুন লাগার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিকল্প হিসেবে শঠিবাড়ী গ্রিড থেকে সংযোগ চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।

মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. পারভেজ বলেন, কেন্দ্রসচিব আগেই বিষয়টি জানালে প্রয়োজনীয় বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হতো। তিনি জানান, এ ঘটনায় কেন্দ্রসচিব প্রশাসনকে আগে থেকে অবহিত করেননি।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে এলইডি লাইট, চার্জার লাইট এবং মোমবাতির মতো জরুরি ব্যাকআপ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিষয়টিকে অপ্রত্যাশিত ও উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন।