Tathyojora.news পাবনায় কওমি মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, আটক করে পুলিশে দিলেন স্থানীয়রা - Tathyojora.news

পাবনায় কওমি মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, আটক করে পুলিশে দিলেন স্থানীয়রা


নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ৯:২৫ PM
পাবনায় কওমি মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, আটক করে পুলিশে দিলেন স্থানীয়রা

পাবনার সদর উপজেলায় একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক আবু ইউসুফকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় লোকজন। অভিযোগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসা ও অভিযুক্তের বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পদ্মা মাঠসংলগ্ন দড়িভাউডাঙ্গা গ্রামের নুরে মদিনা মহিলা কওমি মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, ফজরের আজানের আগে এক ছাত্রী শৌচাগারে যাওয়ার জন্য কক্ষ থেকে বের হলে শিক্ষক আবু ইউসুফ তাকে জোর করে একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত শিক্ষক পালানোর চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।

অভিযুক্ত আবু ইউসুফ পাবনা সদর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে। তিনি ওই মহিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক ছিলেন। মাদ্রাসাটিতে প্রায় দেড়শ ছাত্রী পড়াশোনা করেন বলে জানা গেছে।

ওই ছাত্রীর অভিযোগ, এর আগেও একাধিকবার তাকে অচেতন করে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ জন্য চেতনানাশক পদার্থ ব্যবহার করা হতো বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনার পর তাকে জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ খাওয়ানো হতো বলেও অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী। মাদ্রাসার আরও কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি তার।

বিষয়টি প্রকাশ করলে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী। অভিযুক্ত শিক্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, অভিযোগের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন মাদ্রাসা ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালান এবং আগুন ধরিয়ে দেন বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া অভিযুক্ত আবু ইউসুফের বিরুদ্ধে আগে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগও তুলেছেন নিহত স্ত্রীর স্বজনেরা। তাঁদের দাবি, পরকীয়ার জেরে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল। এ অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।