Tathyojora.news সাজেকে দুই ঘণ্টা গোলাগুলি, ৩ হাজার পর্যটক উদ্ধার - Tathyojora.news

সাজেকে দুই ঘণ্টা গোলাগুলি, ৩ হাজার পর্যটক উদ্ধার


তথ্যজোড়া ডেস্ক অক্টোবর ২২, ২০২৬, ১০:২৭ PM
সাজেকে দুই ঘণ্টা গোলাগুলি, ৩ হাজার পর্যটক উদ্ধার

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উজোবাজার এলাকায় থেমে থেমে গুলিবিনিময় হয়। এ ঘটনায় আটকে পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে সংঘর্ষে হতাহতের বিষয়ে পুলিশ ও আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিবের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘর্ষে সেনাবাহিনীর তিন থেকে চারজন সদস্য এবং পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে অবরোধকারীদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হলে তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটলে নিরাপত্তা বাহিনীও পাল্টা গুলি চালায়।

অন্যদিকে, আইএসপিআর বৃহস্পতিবার বিকেলে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সাজেকের গঙ্গারাম বাজার এলাকায় পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। সেনাবাহিনীর টহল দল আত্মরক্ষা ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাল্টা গুলি চালালে সশস্ত্র ব্যক্তিরা সরে যায়। আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে আটকে পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।

যেভাবে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি

সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন তিন দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে যান চলাচলে বাধা দেওয়া হয়।

অবরোধের কারণে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের ফেরার পথে বিঘ্ন ঘটে। পর্যটকদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নেয়। কিন্তু বাঘাইছড়ির উজোবাজার ও গঙ্গারাম বাজার এলাকায় বাধার মুখে পড়ে পর্যটকবাহী গাড়িবহর। অবরোধকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর আলোচনা চলাকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সুপারের বক্তব্য অনুযায়ী, বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত থেমে থেমে গোলাগুলি চলে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং উজোবাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।

অবরোধের পেছনে যে তিন দফা দাবি

অবরোধকারী সংগঠন দুটির অভিযোগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু গ্রুপ) সশস্ত্র সদস্যরা সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযুক্ত সশস্ত্র সদস্যদের এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবিতে তারা কর্মসূচি পালন করছে।

সংগঠনগুলোর অভিযোগ, মাচলংসহ কয়েকটি এলাকায় সশস্ত্র তৎপরতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

গত ১১ অক্টোবরও সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়েছিল। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করা হয়। দাবি পূরণ না হওয়ার অভিযোগে ১৫ অক্টোবর আবারও অবরোধ শুরু হয়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখার পর বৃহস্পতিবার থেকে তা পুনরায় কার্যকর করা হয়।

পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ, পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষা

নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। একই সঙ্গে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার মধ্যে নিরাপদে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবারের গোলাগুলির পর প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে আইএসপিআর। পুলিশও জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে পর্যটনকেন্দ্রটি পুনরায় চালুর বিষয়ে জেলা প্রশাসনের নতুন নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত সাজেক ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে সর্বশেষ সরকারি ঘোষণা যাচাই করা জরুরি।