
নেত্রকোনার পূর্বধলায় সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে মোহাম্মদ আলী ছোবহান ও জেসমিন বেগম নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। উপজেলার যাত্রাবাড়ি ভূমি অফিস ও ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাঁদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে স্থানীয় লোকজন তাঁদের আটক করেন।
গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের শ্যামগঞ্জ শাখার তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দাওয়াত দেওয়ার কথা বলে তাঁরা বিভিন্ন স্থানে যান। অভিযোগ রয়েছে, কোনো আমন্ত্রণপত্র বা কার্ড ছাড়াই দাওয়াত দেওয়ার অজুহাতে তাঁরা চাঁদা দাবি করেন। তাঁদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা বিষয়টি শ্যামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক মো. আল ইমরানকে জানান।
খবর পেয়ে শ্যামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আল ইমরান ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামরান হোসেন যাত্রাবাড়িতে গিয়ে ওই দুই ব্যক্তির পরিচয় জানতে চান। এ সময় মোহাম্মদ আলী ছোবহান নিজেকে বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের শ্যামগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং দৈনিক শেষ সংবাদের ময়মনসিংহ ব্যুরোপ্রধান বলে পরিচয় দেন।
তবে তাঁর দেওয়া পরিচয়ের সত্যতা যাচাই করতে বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের বিভাগীয় প্রধান মো. শামীম তালুকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি জানান, আলী ছোবহান নামে বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের শ্যামগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক পদে কেউ দায়িত্ব পালন করছেন না।
একইভাবে দৈনিক শেষ সংবাদের সম্পাদক জাকির হোসেন ও পত্রিকাটির বার্তা সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরাও জানান, আলী ছোবহান নামে ময়মনসিংহ ব্যুরোপ্রধান হিসেবে তাঁদের পত্রিকায় কোনো প্রতিনিধি নেই। তাঁদের মতে, পত্রিকার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ চাঁদা দাবি করলে তাঁকে আইনের হাতে তুলে দেওয়া উচিত।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তদের সতর্ক করে ছেড়ে দেন বলে জানা গেছে। ভবিষ্যতে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে কারও কাছে চাঁদা দাবি না করার জন্যও তাঁদের সতর্ক করা হয়।
এ বিষয়ে যাত্রাবাড়ি বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও মেসার্স প্রমী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. আব্দুর সাত্তার বলেন, ‘প্রায়ই কিছু ব্যক্তি সাংবাদিকের কার্ড নিয়ে সাংবাদিক পরিচয়ে এসে চাঁদা দাবি করেন।’
তিনি আরও বলেন, আজকের ঘটনার মধ্য দিয়ে তাঁরসহ সাধারণ মানুষের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে যে, শুধু সাংবাদিকের কার্ড থাকলেই কেউ প্রকৃত সাংবাদিক হয়ে যান না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা উচিত।
আপনার মতামত লিখুন :