
বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত কর্মকর্তা প্রকৌশলী মনিরুল ইসলামকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন। সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার বলেন, ‘নানারকম নাটকের সংলাপ ছড়িয়ে সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ফ্যাসিবাদী আচরণ দেখিয়েছে তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা।’ তিনি তথ্য সচিবের ‘শক্তির উৎস’ কোথায়, তা তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করার দাবি জানান।
তিনি বলেন, বিটিভির দুর্নীতির সিন্ডিকেটের ওপর কর্তৃত্ব বজায় রাখার জন্য তথ্য সচিব মরিয়া হয়ে উঠেছেন বলে তাদের অভিযোগ। নতুন মহাপরিচালককে সচিব পদমর্যাদায় বসানোর বিষয়টিও তথ্য সচিব মেনে নিতে পারছেন না বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে নতুন ডিজি বিটিভির কথিত লুটেরা সিন্ডিকেটকে শুরু থেকেই কোনো ধরনের প্রশ্রয় দিচ্ছেন না বলেও দাবি করেন তিনি।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্টরা পরামর্শ করে তথ্য সচিবের মাধ্যমে বিটিভির ডিজির বরাবর একটি পরিপত্র জারি করিয়েছেন। ওই পরিপত্রে বর্তমান ডিজির কোনো বদলি, নিয়োগ বা কাউকে শাস্তি দেওয়ার এখতিয়ার নেই এবং এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হলে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি প্রয়োজন-এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার প্রশ্ন তোলেন, ‘এ ধরনের হুকুম জারি করার ক্ষমতা কোথা থেকে পেয়েছেন তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা-সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিটিভির প্রকৌশলী মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও নথির ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ চলমান থাকা এবং বিভিন্ন তদন্তে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার দাবি করা হলেও তাকে কীভাবে পদোন্নতি দেওয়া হলো, সেটিও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
সংগঠনটির অভিযোগ, বিটিভির দুর্নীতির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাশাপাশি তথ্য সচিবও দায়ী। এমনকি বিভিন্ন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার সঙ্গে তার অর্থ লেনদেনের সম্পর্ক রয়েছে বলেও বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো নথি বা প্রমাণ বিবৃতিতে প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে মনিরুল ইসলামের পদোন্নতি বাতিলের দাবি জানিয়ে মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার বলেন, ‘বিটিভির অভিযুক্ত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মনিরুল ইসলামের পদোন্নতির তীব্র প্রতিবাদ জানাই। কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের হোতাদের অপসারণ ও বিচার চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘অবিলম্বে দুর্নীতিবাজ মনিরুল ইসলামের এই অনৈতিক পদোন্নতি বাতিল করতে হবে।’
বিবৃতিতে তাসমিনা, মনিরুল, শামসুল ও সুমন রেজাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিও জানানো হয়েছে।
সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, বিটিভির দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী বাংলাদেশ সংস্কৃতি ও শিল্পী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতৃবৃন্দ প্রায় দুই বছর আগে মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণসহ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও তথ্য মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। সংগঠনটির দাবি, উভয় প্রতিষ্ঠানের তদন্তে তার বিরুদ্ধে শত কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। পাশাপাশি এনএসআই ও এসবির প্রতিবেদনেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এছাড়া বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় মনিরুল ইসলামের কথিত দুর্নীতি নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এসব অভিযোগের পরও তথ্য মন্ত্রণালয় ও তথ্য সচিব তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো পদোন্নতি দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত মঙ্গলবার আন্দোলনকারী পলাশ কুমার সাউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে তিন কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে একটি পোস্ট দেন। এর প্রতিক্রিয়ায় তথ্য মন্ত্রণালয় ও বিটিভি কর্তৃপক্ষ পলাশ কুমার সাউকে এখন পর্যন্ত পাঁচটি কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিটিভির কথিত দুর্নীতির সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সংস্কৃতি ও শিল্পী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদসহ আরও কয়েকটি সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। কিন্তু দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তাদের পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন শেষ হয়নি।’ প্রয়োজন হলে বিটিভিকে কেন্দ্র করে পুনরায় কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করার কথাও জানান তিনি।
তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানার কথিত ‘শক্তির উৎস’ খুঁজে বের করা এবং প্রকৌশলী মনিরুল ইসলামের পদোন্নতির বিষয়টি তদন্তের দাবি জানান। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতেও তারা প্রস্তুত বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, বিটিভির কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্যদের বক্তব্য বিবৃতিতে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :