
কিছু মানুষ পদ-পদবির কারণে পরিচিত হন, আবার কিছু মানুষ তাঁদের কর্ম, চিন্তা, সাহস ও আদর্শের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। সায়েক এম রহমান তেমনই একজন-একজন নির্ভীক লেখক, কলামিস্ট, চিন্তাশীল ব্যক্তিত্ব এবং নীরব দেশপ্রেমিক।
সুনামগঞ্জের এই কৃতী সন্তান দীর্ঘদিন ধরে মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন, বাকস্বাধীনতা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে তাঁর শক্তিশালী কলম চালিয়ে আসছেন। এমন এক কঠিন সময়েও তিনি সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে লিখেছেন, যখন অন্যায়ের প্রতিবাদ করা ছিল ঝুঁকিপূর্ণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস সবার ছিল না।
বিগত সরকারের সময়ে অন্যায়-অবিচার, নির্যাতন, গুম-খুন এবং মানুষের বাকস্বাধীনতা হরণের অভিযোগের বিরুদ্ধে তাঁর লেখনী ছিল সোচ্চার। দেশ থেকে দীর্ঘদিন দূরে থাকলেও বাংলাদেশের মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে তাঁর অবস্থান কখনো বদলায়নি। প্রবাসের মাটিতে থেকেও তাঁর চিন্তা ও লেখনী আবর্তিত হয়েছে প্রিয় বাংলাদেশকে ঘিরে।
‘শীর্ষ খবর’-এর উপদেষ্টা সম্পাদক হিসেবে তাঁর ভূমিকা ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিকূল পরিবেশেও মানুষের কথা, গণতন্ত্রের কথা এবং অধিকারবঞ্চিত মানুষের কথা তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর সাহসী ভূমিকা স্মরণযোগ্য। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য ও রাজনৈতিক বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর লেখনী ও গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রশংসনীয়।
সায়েক এম রহমান ভাইয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময়ের। তাঁকে কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, তিনি কখনো নিজের প্রচারের জন্য কাজ করেননি; বরং কাজ করেছেন বিশ্বাস, আদর্শ এবং একটি সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্নকে সামনে রেখে।
তিনি পদ-পদবির পেছনে ছোটেননি, নিজের অবদানের প্রচারেও আগ্রহী হননি। অথচ কঠিন সময়ে তাঁর কলম আমাদের মতো অসংখ্য মানুষকে সাহস দিয়েছে, সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করেছে এবং একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছে।
তাঁর ‘অবরুদ্ধ বাংলাদেশ’ ও ‘একটি ভোরের প্রত্যাশা’সহ বিভিন্ন লেখনী শুধু বই বা লেখা নয়; এগুলো একটি সময়ের দলিল, একটি প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা এবং একটি মুক্ত, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি।
সায়েক এম রহমানের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর কলম। সেই কলম অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেনি, সত্যকে আড়াল করেনি এবং মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে নীরব থাকেনি।
ইতিহাস শুধু ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা মানুষদের মনে রাখে না; ইতিহাস তাঁদেরও মনে রাখে, যারা কঠিন সময়ে সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লিখেছেন এবং কলমকে মানুষের অধিকারের শক্তিশালী হাতিয়ার বানিয়েছেন।
সায়েক এম রহমান সেই নীরব যোদ্ধাদেরই একজন। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার জন্য নয়, বরং একটি সুন্দর বাংলাদেশের প্রত্যাশায় তিনি বছরের পর বছর নীরবে লিখেছেন, লড়েছেন এবং মানুষকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন।
আজ সময় এসেছে তাঁর মতো জ্ঞানী, চিন্তাশীল, অভিজ্ঞ ও দেশপ্রেমিক মানুষের মেধা, প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতাকে বৃহত্তর জনকল্যাণে কাজে লাগানোর।
সত্যের পক্ষে তাঁর কলম আরও শক্তিশালী হোক, মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্রের পক্ষে তাঁর কণ্ঠ আরও উচ্চারিত হোক। আর তাঁর সেই ‘একটি ভোরের প্রত্যাশা’ একদিন সত্যিকারের নতুন ভোর হয়ে বাংলাদেশের আকাশে উদিত হোক-এই প্রত্যাশাই রইল।
লেখক – কাজী দিদারুল আলম
আপনার মতামত লিখুন :