Tathyojora.news ‘বিএনপি সরকারের সময়ের পদোন্নতি, অথচ দায় চাপানো হচ্ছে আমার ওপর’- আসিফ মাহমুদ - Tathyojora.news

‘বিএনপি সরকারের সময়ের পদোন্নতি, অথচ দায় চাপানো হচ্ছে আমার ওপর’- আসিফ মাহমুদ


নিজস্ব প্রতিবেদক সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ৪:৩৩ PM
‘বিএনপি সরকারের সময়ের পদোন্নতি, অথচ দায় চাপানো হচ্ছে আমার ওপর’- আসিফ মাহমুদ

দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) নিজের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তাঁর দাবি, যে সব বদলি ও পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর সময়কাল ও সরকারি নথিপত্র যাচাই করলেই অভিযোগের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার প্রশ্নটি স্পষ্ট হয়ে যাবে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি এবং প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায় উপস্থাপন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও পদায়নের মাধ্যমে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের যে বিষয়টি দুদক সামনে এনেছে, সেটির সঙ্গে বাস্তব ঘটনার মিল নেই।

তিনি জানান, ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর ১১২ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে কোনো ধরনের পদোন্নতি না দিয়েই উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য, ওই সিদ্ধান্ত ছিল নিয়মবহির্ভূত। পরে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালও সংশ্লিষ্ট আদেশকে অবৈধ ঘোষণা করেন।

আইনি প্রক্রিয়ার পর প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে আপিল নিষ্পত্তির রায় আসে। ওই রায় কার্যকর করার অংশ হিসেবে ২০২১ সালে ১১২ জনকে চলতি দায়িত্ব দেওয়ার আদেশটি ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ মন্ত্রণালয় বাতিল করে বলে জানান তিনি।

দুদকের অভিযোগের দ্বিতীয় অংশ নিয়েও আপত্তি জানান আসিফ মাহমুদ। তাঁর বক্তব্য, ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি ও পছন্দ অনুযায়ী পদায়নের বিনিময়ে প্রায় দুই কোটি টাকা নেওয়ার প্রস্তুতির অভিযোগ করা হয়েছে। অথচ সংশ্লিষ্ট পদোন্নতির সরকারি আদেশ হয়েছে ১১ মে ২০২৬।

এই সময়ের সঙ্গে তাঁর দায়িত্বে থাকার সময়ের তুলনা টেনে তিনি বলেন, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ তিনি উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এর পর ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। আর যে পদোন্নতি নিয়ে অভিযোগ, সেটির সরকারি আদেশ জারি হয় ১১ মে ২০২৬।

এই সময়ক্রম তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ প্রশ্ন করেন, বিএনপি সরকারের সময়ে হওয়া ওই পদোন্নতির দায় তাঁর ওপর কেন বর্তাবে।

তিনি আরও বলেন, অভিযোগের বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করা হলে ১১ মে ২০২৬-এর পদোন্নতি নিয়ে তদন্তের প্রয়োজন হলে বর্তমানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে ঘিরেই তদন্ত হওয়ার কথা। কিন্তু তাঁর পরিবর্তে কেন তাঁকে তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

এদিকে, দুদকের মুখপাত্রের বক্তব্যের বিষয়টিও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়া গেছে বলে দুদকের মুখপাত্র সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন। পরে সাংবাদিকদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ওই মুখপাত্র জানান, ‘প্রাথমিক সত্যতা’ শব্দ দুটি ভুলবশত ব্যবহার করা হয়েছে এবং বিষয়টি সংবাদে প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।

আসিফ মাহমুদের অভিযোগ, এমন গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার পরও দুদকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সংশোধনী প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বক্তব্যটি প্রচারিত হয়ে তাঁর সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে মানহানি ঘটেছে।

দুদকের এই কর্মকাণ্ডের পেছনে দুর্নীতি অনুসন্ধানের বদলে রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্য রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে জনগণের কাছে তাঁর সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে আইনসম্মত ও নিরপেক্ষভাবে কোনো অনুসন্ধান বা তদন্ত পরিচালিত হলে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন বলে স্পষ্ট করেন আসিফ মাহমুদ।

এ ছাড়া দুদকের মুখপাত্রের বক্তব্যের কারণে তাঁর যে মানহানি হয়েছে, সে বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।