Tathyojora.news জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: ডা. শফিকুর রহমান - Tathyojora.news

জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: ডা. শফিকুর রহমান


নিজস্ব প্রতিবেদক সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ৫:১১ PM
জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: ডা. শফিকুর রহমান

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে নেতারা বলেছেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ছয় দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। সরকার লংমার্চে বাধা দিলে কর্মসূচি আরও কঠোর রূপ নিতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

রাজধানীর শাপলা চত্বরে শুক্রবার সকাল ৭টায় শুরু হয় ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সমাবেশে জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে লংমার্চের যাত্রা শুরু হয়।

উদ্বোধনী সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেন, এই লংমার্চ ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে। জনগণের দাবি স্পষ্ট-দেশের মানুষ গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সংকটে ভুগছে। সংকটের মধ্যেও তাদের নিয়মিত বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তারা নেমেছেন এবং অধিকার প্রতিষ্ঠা করেই ঘরে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, এই লংমার্চ কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নয়, এটি আপামর জনতার। সরকার কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সব বাধা উপেক্ষা করেই লংমার্চ চট্টগ্রামে পৌঁছাবে। একই সঙ্গে ১১ দলের ছয় দফা দাবি এক দফার আন্দোলনে রূপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক অভিযোগ করেন, সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ক্ষমতায় থেকে জনগণকে ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করা হলে তাদের টেনে নামাতে এক চুলও পিছপা হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে; বরং সময়ের সঙ্গে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোও ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকারকে সংসদে নিজেদের ভুল স্বীকার করে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে।

সমাবেশে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। এ ছাড়া লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।

ছয় দফা দাবিতে লংমার্চ

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকটের সমাধান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এই লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চের পথে পূর্বনির্ধারিত কয়েকটি স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের কাচপুর ব্রিজ সংলগ্ন ট্রাকস্ট্যান্ডে প্রথম পথসভা, এরপর কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল এবং মীরসরাইয়ে পথসভা করার কথা রয়েছে।

লংমার্চের শেষ গন্তব্য চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দান। সেখানে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, লংমার্চের বিভিন্ন পয়েন্টে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে এবং কর্মসূচিকে ঘিরে জনসমাগম বাড়ছে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে এটিকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে শুরু হওয়া এই লংমার্চের মধ্য দিয়ে ছয় দফা দাবি ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার বার্তা সারাদেশে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য।