
দেশে দ্রুত বাড়ছে ইলেকট্রনিক বর্জ্যের (ই-বর্জ্য) পরিমাণ। বর্তমানে বছরে প্রায় ৩০ লাখ মেট্রিক টন ই-বর্জ্য উৎপন্ন হলেও এর মাত্র ১০ শতাংশ আনুষ্ঠানিকভাবে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। ফলে অবশিষ্ট বিপুল পরিমাণ বর্জ্য অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবস্থাপিত হয়ে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্রমেই বড় হুমকি হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর ও টেকসই ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে রাজধানীর ওয়াইডাব্লিউসিএ মিলনায়তনে “বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে” শীর্ষক জাতীয় জনসংলাপে এসব বিষয় উঠে আসে। অধিকারভিত্তিক সংগঠন ভয়েস, অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রগ্রেসিভ কমিউনিকেশনস (এপিসি)-এর সহযোগিতায় এ সংলাপের আয়োজন করে। এতে সরকারি কর্মকর্তা, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, গবেষক, পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত ভয়েস-এর মূল্যায়ন প্রতিবেদনে জানানো হয়, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশে ই-বর্জ্যের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৪৬ দশমিক ২ লাখ মেট্রিক টনে পৌঁছাতে পারে। তবে বর্তমানে উৎপন্ন মোট ই-বর্জ্যের মাত্র ১০ শতাংশ আনুষ্ঠানিকভাবে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত হচ্ছে। বাকি অংশ অনানুষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থাপিত হওয়ায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্যও গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ সোলায়মান হায়দার বলেন, টেকসই ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগ, অঞ্চলভিত্তিক কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার যত বাড়বে, ই-বর্জ্যের পরিমাণও তত বৃদ্ধি পাবে। তাই নিরাপদ পুনর্ব্যবহার, গবেষণা কার্যক্রম জোরদার এবং সরকার, শিল্পখাত ও অনানুষ্ঠানিক খাতের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের অন্যতম প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট পরামর্শক তড়িৎ কান্তি বিশ্বাস বলেন, কেবল নীতিমালা প্রণয়ন বা সচেতনতা বৃদ্ধি যথেষ্ট নয়। দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের জন্য কার্যকর অবকাঠামো, বাস্তবায়ন সক্ষমতা এবং টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় ভয়েস-এর নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ দেশব্যাপী জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নিয়মিত ক্যাম্পেইন ও কর্মশালার আয়োজনের মাধ্যমে তরুণদের ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
জনসংলাপে অংশগ্রহণকারীরা সমন্বিত জাতীয় নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন, শক্তিশালী মনিটরিং ব্যবস্থা, নিরাপদ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সার্কুলার ইকোনমিভিত্তিক উদ্যোগ সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। তাদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ই-বর্জ্যকে পরিবেশের জন্য ঝুঁকি না বানিয়ে মূল্যবান সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব।
আপনার মতামত লিখুন :