Tathyojora.news অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে ইনহেলার নিশ্চিত করার তাগিদ, বিশ্ব অ্যাজমা দিবসে বিশেষজ্ঞদের বার্তা - Tathyojora.news

অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে ইনহেলার নিশ্চিত করার তাগিদ, বিশ্ব অ্যাজমা দিবসে বিশেষজ্ঞদের বার্তা


নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৪, ২০২৬, ৩:৩৪ AM
অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে ইনহেলার নিশ্চিত করার তাগিদ, বিশ্ব অ্যাজমা দিবসে বিশেষজ্ঞদের বার্তা

শ্বাসনালির দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহজনিত রোগ অ্যাজমা বা হাঁপানি বিশ্বজুড়ে একটি ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক-সব বয়সী মানুষের মধ্যেই এ রোগের প্রকোপ বাড়ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক চিকিৎসা ও নিয়মিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, আর এর কেন্দ্রে রয়েছে ইনহেলার ব্যবহার।

রবিবার (৩ মে) বিশ্ব অ্যাজমা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে এভারকেয়ার হাসপাতাল ঢাকা – এর শ্বাসতন্ত্র চিকিৎসা বিভাগ আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল – “অ্যাজমা আক্রান্ত প্রত্যেক রোগীর জন্য ইনহেলার নিশ্চিত করা জরুরি”।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল – এর পরিচালক ডা. কাজী সাইফুদ্দীন বেননূর। তিনি বলেন, “আমরা প্রতি মুহূর্তে সহজেই শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করি, কিন্তু একজন অ্যাজমা রোগীর জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টকর অভিজ্ঞতা। তাই তাদের জন্য কার্যকর চিকিৎসা সহজলভ্য করা জরুরি।”

এভারকেয়ার হাসপাতালের গ্রুপ মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. আরিফ মাহমুদ জানান, অ্যাজমা একটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য রোগ হলেও অনেক রোগী এখনো যথাযথ চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “প্রতিটি অ্যাজমা রোগীর জন্য ইনহেলার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।”

সেমিনারে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. এস এম আবদুল্লাহ আল মামুন জলবায়ু পরিবর্তন ও বায়ুদূষণকে অ্যাজমা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “বাতাসে ধূলিকণা, ধোঁয়া ও ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি বাড়ার ফলে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দ্রুত বাড়ছে।”

তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সবার জন্য উন্নত চিকিৎসা সহজলভ্য করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এআইসিইউ ও এইচডিইউ বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. জাফর ইকবাল। সভাপতিত্ব করেন রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. জিয়াউল হক।

দিনব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি, অক্সিজেন থেরাপি ও ইনহেলেশন টেকনিক বিষয়ক কর্মশালা এবং অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়। পুরো আয়োজনটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে অ্যারিস্টোফার্মা।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সময়মতো সচেতনতা ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে অ্যাজমা রোগীদের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা সম্ভব।