Tathyojora.news মন্ত্রিসভা ছাড়ার ঘোষণা ইশরাকের, মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার - Tathyojora.news

মন্ত্রিসভা ছাড়ার ঘোষণা ইশরাকের, মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার


নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ৮:৪৮ PM
মন্ত্রিসভা ছাড়ার ঘোষণা ইশরাকের, মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার

নানা আলোচনা ও সমালোচনার পর মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ২টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে না থাকলেও মাদকবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন এই বিএনপি নেতা।

সম্প্রতি রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েন ইশরাক। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) ওই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। এর ধারাবাহিকতায় রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরদিন সেই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক।

সংবাদ সম্মেলনে নিজের অভিযানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে ইশরাক হোসেন বলেন, তিনি যে এলাকায় গিয়েছিলেন, সেটি মাদক সরবরাহ ও বিতরণের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তার ভাষ্য, সেখানে মাদক কারবারিদের অর্থ ও অস্ত্র-দুটিই রয়েছে।

অভিযানে হাতে থাকা অস্ত্রটি বৈধ বলে দাবি করেন ইশরাক। তিনি জানান, নিজের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কিছু সময়ের জন্য অস্ত্রটি হাতে রেখেছিলেন। তার অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশ যেতে অনাগ্রহী ছিল।

ইশরাক বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করাই ছিল তার উদ্দেশ্য; জমি দখল কিংবা চাঁদাবাজির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু গণমাধ্যমে ঘটনাটি যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তাতে মাদক নির্মূলের মূল বিষয়টি আড়ালে পড়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অভিযানের দিনের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে ইশরাক জানান, সেখানে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছিল। পুলিশ কখন আসবে, সে সম্পর্কেও জানানো হয়। তার দাবি, তিনি এলাকায় প্রবেশের পর প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জনকে ছোটাছুটি করতে দেখেন এবং একদল লোক তাদের দিকে এগিয়ে আসছিল। এমন পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থেই বৈধ অস্ত্রটি হাতে রাখেন তিনি।

ভাইরাল ভিডিওর কারণে নিজের পাশাপাশি দলের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ইশরাক। তার ভাষ্য, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজেই পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

তবে মন্ত্রিসভা ছাড়ার সিদ্ধান্তকে মাদকবিরোধী কার্যক্রম থেকে সরে যাওয়া হিসেবে দেখছেন না ইশরাক। বরং বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে আগের চেয়ে আরও বেশি উদ্যম নিয়ে মাদক নির্মূলের কাজে যুক্ত থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

এর আগে সোমবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ইশরাক। একই পোস্টে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে উল্লাস প্রকাশকারীদের সমালোচনা করেন তিনি। ভবিষ্যতে আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তাদের দেশে ফিরে অংশ নেওয়ার আহ্বানও জানান।

ফেসবুক পোস্টে ইশরাক আরও জানান, সংসদ সদস্য কিংবা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করবেন তিনি। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম বিস্তৃত করতে বিভিন্ন জেলা সফরের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন।

নিজের বক্তব্যের শেষে মাদক নির্মূলের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি লেখেন, ‘মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল! মাদক নির্মূল, মাদক নির্মূল!’

উল্লেখ্য, রোববার রাতে ইশরাকের পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও তার প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ-সংক্রান্ত তথ্যকে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করা হয়েছিল। এর পরদিনই জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মন্ত্রিসভা ছাড়ার ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন।