
শেখ হাসিনার শাসনামলে গঠিত তিনটি সংসদকে বিএনপি অবৈধ মনে করলেও সরকার এখনো সেগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবৈধ ঘোষণা করেনি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের মাধ্যমে পুরোনো সাংবিধানিক কাঠামোর ধারাবাহিকতা থেকে বেরিয়ে নতুন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী ৩০ অক্টোবরের বিক্ষোভ মিছিল সফল করার লক্ষ্যে আয়োজিত পথসভা ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মসূচির আয়োজন করে এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তর।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ৭০ শতাংশের রায়কে অবমাননা করেছে। বিএনপি শেখ হাসিনার শাসনামলের তিনটি সংসদকে অবৈধ বলে মনে করে। এনসিপিও সেগুলোকে অবৈধ মনে করলেও আইনগতভাবে অবৈধ ঘোষণা করার সুযোগ নেই, কারণ বিএনপি সরকার এখনো সংসদগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করেনি।
তিনি বলেন, এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের সুযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে পুরোনো সংসদ ও সংবিধানের ধারাবাহিকতা থেকে বেরিয়ে নতুনভাবে দেশ পরিচালনা এবং বাংলাদেশকে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব।
পুরোনো সাংবিধানিক কাঠামো বহাল রাখার সম্ভাব্য পরিণতি তুলে ধরে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি সবচেয়ে ভালো সংশোধনী আনলেও ভবিষ্যতে সেই সংশোধনী বাতিল করে বর্তমান সরকার ও অন্তর্বর্তী সময়কে অবৈধ ঘোষণার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে তিনি পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের উদাহরণ টেনে বলেন, আওয়ামী লীগ কীভাবে পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানকে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী হিসেবে ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছিল, তা দেখা গেছে। তারেক রহমানের ক্ষেত্রেও এমন কিছু ঘটবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, তারেক রহমানের স্বার্থেও অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা জরুরি। পুরোনো সংসদ, পুরোনো সরকার ও পুরোনো সাংবিধানিক কাঠামোর ধারাবাহিকতা থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশে নতুন গণতান্ত্রিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
পাহাড়ের অস্থিরতা নিয়ে সরকারের বক্তব্য দাবি
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি সমতল থেকে পাহাড় পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছে। পাহাড় কেন অশান্ত, সে বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট বক্তব্য দিতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভাষ্য, পাহাড়কে শান্ত ও স্থিতিশীল রাখতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। সেখানে কারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো কীভাবে তৎপরতা ও ষড়যন্ত্র চালানোর চেষ্টা করছে, তা জনগণের সামনে পরিষ্কার করতে হবে। বিষয়টি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে জড়িত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পাহাড়ের অস্থিরতার পেছনে ভারতের সঙ্গে সরকারের গোপন আঁতাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টির প্রয়োজন হলে প্রতিবেশী দেশটি পাহাড়ে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করে। পাহাড়ে কারা অস্ত্র সরবরাহ করে এবং কারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে, তা তাঁদের জানা আছে বলেও দাবি করেন তিনি।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন যারা
পথসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দলটির মেয়রপ্রার্থী আসিফ মাহমুদ, রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার, সালেহ উদ্দিন সিফাত এবং সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম। এ ছাড়া এনসিপির কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন।
আপনার মতামত লিখুন :