Tathyojora.news মেধার মূল্যায়ন না হলে তরুণদের স্বপ্ন ভাঙবে, প্রশ্নফাঁসের দায় সরকারকে নিতে হবে: আসিফ মাহমুদ - Tathyojora.news

মেধার মূল্যায়ন না হলে তরুণদের স্বপ্ন ভাঙবে, প্রশ্নফাঁসের দায় সরকারকে নিতে হবে: আসিফ মাহমুদ


নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১০, ২০২৬, ৭:২৭ PM
মেধার মূল্যায়ন না হলে তরুণদের স্বপ্ন ভাঙবে, প্রশ্নফাঁসের দায় সরকারকে নিতে হবে: আসিফ মাহমুদ

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, মেধার বদলে টাকার খেলা চলতে পারে না। প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় সরকারকেই নিতে হবে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তরুণদের স্বপ্ন ও বিশ্বাসভঙ্গের পুরোনো অধ্যায়কে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে না পারা সরকারের ব্যর্থতা।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগের জন্য শনিবার সকাল ১১টায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ২৪২টি পদের বিপরীতে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল তিন লাখের বেশি চাকরিপ্রার্থীর। রাজধানীর প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে পরীক্ষার আয়োজন করা হলেও শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর সামনে আসে। পরে পরীক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার যোগসাজশে পরিচালিত একটি চক্র দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পরীক্ষার্থীদের ঢাকায় এনে তাঁদের প্রবেশপত্র সংগ্রহ করে। প্রার্থীপ্রতি গড়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে প্রশ্নপত্র ও উত্তর সরবরাহের অভিযোগও উঠেছে। এ ছাড়া রাতভর বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষার্থীদের প্রশ্ন ও উত্তর পড়ানোর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

সংবাদে আরও দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর আত্মীয়সহ অধিদপ্তরের একটি চক্রের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

আসিফ মাহমুদ বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পরও এবং রাতভর এ ধরনের আয়োজন চললেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি সাধারণ মানুষ জানতে পেরেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে। তাঁর মতে, এ ঘটনা সরকারের উচ্চপর্যায়ের কারও সম্পৃক্ততা অথবা প্রশাসনিক ও গোয়েন্দা নজরদারিতে গুরুতর ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়। নিয়োগ পরীক্ষার আগে তথ্য সংগ্রহ, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অনিয়ম প্রতিরোধে সরকারের প্রস্তুতি ও সক্ষমতার ঘাটতিও এতে স্পষ্ট হয়েছে।

এ ঘটনায় অবিলম্বে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এনসিপির মুখপাত্র। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তাঁর দাবি, শুধু পরীক্ষা স্থগিত বা বাতিল করলেই এ সংকটের সমাধান হবে না। চাকরিপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত নতুন পরীক্ষার আয়োজন করতে হবে এবং পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।

সরকারের কর্মসংস্থান প্রতিশ্রুতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, তরুণদের জন্য এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকার ক্ষমতায় এসেছে। অথচ সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ন্যায্য প্রতিযোগিতাই নিশ্চিত করা না গেলে সেই প্রতিশ্রুতির অর্থ কী?

চাকরিপ্রার্থীরা কারও অনুগ্রহ চান না উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁরা মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগের ন্যায্য সুযোগ চান। বছরের পর বছর প্রস্তুতি নেওয়া তরুণদের স্বপ্ন যেন দুর্নীতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে নষ্ট না হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের।