Tathyojora.news লোকসানি লন্ডন সাবসিডিয়ারি, ঢাকায় বিতর্কিত নিয়োগ: সুশাসন নিয়ে প্রশ্নের মুখে আইএফআইসি ব্যাংক - Tathyojora.news

লোকসানি লন্ডন সাবসিডিয়ারি, ঢাকায় বিতর্কিত নিয়োগ: সুশাসন নিয়ে প্রশ্নের মুখে আইএফআইসি ব্যাংক


নিজস্ব প্রতিবেদক সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ৪:৪৯ PM
লোকসানি লন্ডন সাবসিডিয়ারি, ঢাকায় বিতর্কিত নিয়োগ: সুশাসন নিয়ে প্রশ্নের মুখে আইএফআইসি ব্যাংক

মানুষের আমানতের কোটি কোটি টাকা লোকসানের বোঝা বহন করছে – এমন অভিযোগের মধ্যেই আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে যুক্তরাজ্যে পরিচালিত ব্যাংকের একটি সাবসিডিয়ারি দীর্ঘদিন ধরে মুনাফা দিতে ব্যর্থ, অন্যদিকে ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে ব্যাংকের নিজস্ব নিয়োগ নীতিমালা অনুসরণ না করার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় ব্যাংকটির সুশাসন ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

২০১১ সালে লন্ডনে কার্যক্রম শুরু করা আইএফআইসি মানি ট্রান্সফার (ইউকে) লিমিটেড গত ১৪ বছরেও বাংলাদেশকে কোনো ডিভিডেন্ড দিতে পারেনি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বরং ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি রেকর্ড ৩ লাখ ৭ হাজার পাউন্ড লোকসান করেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ব্যবসায়িক কার্যক্রমে এমন দুর্বলতার মধ্যেও বোর্ড সভার নামে পরিচালকদের যুক্তরাজ্য সফরে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনলাইন সভা আয়োজনসংক্রান্ত নির্দেশনা উপেক্ষা করে সরাসরি বিদেশ সফরের মাধ্যমে বোর্ড মিটিং করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ

শুধু বিদেশ ভ্রমণ ও ব্যয়ের বিষয়েই অভিযোগ সীমাবদ্ধ নয়। নতুন চেয়ারম্যান মো. মেহমুদ হোসেন দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংকের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, যোগ্যতা, মেধা ও অভিজ্ঞতার যথাযথ মূল্যায়নের পরিবর্তে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও প্রভাবকে গুরুত্ব দিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যাংকের প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

নথিপত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, জাতীয় ব্যাংক থেকে অনিয়মের অভিযোগে বরখাস্ত হওয়া সাবেক কর্মকর্তা শেখ আখতার উদ্দিন আহমেদকে দ্রুত আইএফআইসি ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া মো. জাকির হোসেনকে হেড অব কার্ডস এবং আব্দুল্লাহ আল হাফিজকে হেড অব সিআরএম পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও ব্যাংকের নিজস্ব রিক্রুটমেন্ট পলিসির ২.৬.H ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্টদের যোগ্যতা, বয়স ও অভিজ্ঞতার বিষয়গুলো যথাযথভাবে যাচাই না করে নামমাত্র মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

রিলিজ অর্ডার ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের অভিযোগ

আরেকটি অভিযোগ উঠেছে মো. মুজাহিদ কবিরকে নিয়ে। তাকে এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (ইভিপি) ও হেড অব আইসিসি পদে নিয়োগ দেওয়া হলেও পূর্ববর্তী ব্যাংক থেকে পাওয়া চূড়ান্ত রিলিজ অর্ডারের কপি জমা না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, যথাযথ নথিপত্র ও নিয়োগসংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই বিতর্কিত ব্যক্তিদের ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পদে বসানোর ফলে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনের পর নজর নিয়ন্ত্রক সংস্থার দিকে

একদিকে লোকসানি বিদেশি সাবসিডিয়ারি পরিচালনায় বিপুল অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ, অন্যদিকে ব্যাংকের নিজস্ব নিয়োগ নীতিমালা ও ব্যাংকিং বিধিবিধান অনুসরণ না করার অভিযোগ-দুই বিষয় মিলিয়ে আইএফআইসি ব্যাংকের সুশাসন নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে আসা এসব অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট অনিয়মের বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না-এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।