
আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে ২০২৩ সালের কর্মসূচির স্মৃতিচারণ করে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার।
তিনি বলেন, “সাজানো মঞ্চে বক্তব্য রাখা যতটা সহজ, মঞ্চ তৈরি করা ততটা সহজ নয়। পুরোনো ছবিগুলোই কথা বলবে, আমি কিছু বলতে চাই না।”
অলিদ তালুকদার জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম দিবসের কর্মসূচি আয়োজন করতে গিয়ে তাকে জীবনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তার দাবি, সেদিন তিনি ও মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা সাহস করে এগিয়ে না এলে ওই কর্মসূচি কোনোভাবেই আয়োজন করা সম্ভব হতো না।
তিনি বলেন, কর্মসূচির ব্যানার, ফেস্টুনসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু প্রস্তুত করে কাকরাইলে তার বাসায় গোপনীয়ভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। আইডিবি ভবনের হলরুমও ভিন্ন নামে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
অলিদ তালুকদারের ভাষ্য, কর্মসূচির প্রস্তুতির সময় তাকে বারবার গোয়েন্দা নজরদারির মুখে পড়তে হয়। অনুষ্ঠান শুরুর আগে তার বাসা থেকে একে একে প্রয়োজনীয় সামগ্রী গোপনে হলরুমে নেওয়া হচ্ছিল। একপর্যায়ে কাকরাইলে তার বাসার চারপাশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘিরে ফেলেছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
হলরুমের ম্যানেজারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য হলরুম ভাড়া দেওয়াই তার ‘অপরাধ’ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। পরে তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয় বলে দাবি করেন অলিদ তালুকদার।
২০২৩ সালের সেই সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, পেছনে ফেলে আসা দিনগুলোর অনেক মুহূর্তই ছিল ভয়ংকর। বিশেষ করে সর্বশেষ সময়ের কঠিন পরিস্থিতি তাকে যে পরিমাণ ক্ষত-বিক্ষত করেছে, তা ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও নিজের হতাশার কথা জানান তিনি। তার অভিযোগ, বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গনে সুবিধাবাদী ও ‘হাইব্রিড’ চরিত্রের উত্থান ঘটেছে। এসব বিষয় সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে তিনি দেশ ও জাতিকে ফ্যাসিবাদী শক্তির আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।
আপনার মতামত লিখুন :