
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) শাখা ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক। কমিটিতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন-এমন অভিযোগ থাকা এক শিক্ষার্থীর পদ পাওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় সংগঠনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের এনিম্যাল সাইন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের শিক্ষার্থী সামিউল ইসলাম আকাশ। সংশ্লিষ্ট একাধিক নেতাকর্মীর দাবি, গত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের আগে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শেকৃবি ছাত্রলীগ সভাপতির ফেসবুক আইডিতেও আকাশের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ছবি ও ভিডিও রয়েছে।
নেতাকর্মীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর থেকেই তিনি নিজেকে ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। সম্প্রতি নতুন কমিটিতে তার গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার সম্ভাবনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সংগঠনের দীর্ঘদিনের ত্যাগী কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন,
“দলের কঠিন সময়ে যারা মাঠে ছিল, হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তাদের বাদ দিয়ে হঠাৎ সুবিধাবাদীদের মূল্যায়ন করা হলে প্রকৃত কর্মীরা নিরুৎসাহিত হবে।”
তারা আরও বলেন,
“আদর্শিক রাজনীতির প্রশ্নে আপস না করে দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের জন্য কাজ করা নেতাকর্মীদেরই মূল্যায়ন করা উচিত।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে সামিউল ইসলাম আকাশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইসঙ্গে শেকৃবি ছাত্রদলের দায়িত্বশীল নেতাদের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য মেলেনি।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, আদর্শিক অবস্থান ও অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা যাচাই ছাড়াই কমিটি গঠন করা হলে সংগঠনের অভ্যন্তরে বিভক্তি আরও বাড়তে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :