Tathyojora.news সিকৃবি ভিসি আলিমুলের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ - Tathyojora.news

সিকৃবি ভিসি আলিমুলের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৩০, ২০২৬, ১২:৪৩ PM
সিকৃবি ভিসি আলিমুলের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়ম, রাজনৈতিক পক্ষপাত, নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, আর্থিক অনিয়ম এবং বিরোধী মতাবলম্বী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের হয়রানির একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে নিরপেক্ষতার পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রভাব বেড়েছে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে দলীয় বিবেচনা প্রাধান্য পেয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট আওয়ামী লীগ ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমর্থনে আয়োজিত একটি মানববন্ধনে অংশ নেন অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলাম। সমালোচকদের দাবি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তার এই অবস্থান প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দেয়। পরে ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের পর সেই রাজনৈতিক প্রভাব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে আরও দৃশ্যমান হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধা ও স্বচ্ছতার পরিবর্তে দলীয় আনুগত্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, উপাচার্যের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে নিয়োগ বোর্ড গঠন করে প্রশ্নবিদ্ধ নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক ও একাডেমিক গুরুত্বপূর্ণ পদে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে শোকজ, প্রশাসনিক চাপ, পদচ্যুতির চেষ্টা এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের পেছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কাজ করেছে বলেও তারা দাবি করেন।

সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি সার্জারি ও থেরিওজেনোলজি বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অধ্যাপক ড. নাসরিন সুলতানা লাকিকে ঘিরে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা এবং জাতীয়তাবাদী চেতনার এই শিক্ষককে পরিকল্পিতভাবে চাকরিচ্যুত করার চেষ্টা চলছে।

তাদের অভিযোগ, তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ, জাল বা বিকৃত নথি এবং ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, এর পেছনে ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কাজ করছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তড়িঘড়ি নিয়োগ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনা উপেক্ষা করে আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগ, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাজনৈতিক বিবেচনায় পদায়ন এবং বিভিন্ন ক্রয় কার্যক্রমে অনিয়ম হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, গত এক বছরে প্রায় ৩০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন কোনো তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি। সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলামের বয়স ইতোমধ্যে ৬৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি উপাচার্য হিসেবে বহাল থাকা বা পুনর্বহালের জন্য বিভিন্ন মহলে জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। সমালোচকদের মতে, নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে পদে থাকার এমন প্রচেষ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

অভিযোগকারীদের মতে, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা, জবাবদিহি ও সুশাসনের পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনা প্রাধান্য পাওয়ায় শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ উপাচার্যের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, গবেষণার পরিবেশ ও প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলামের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সূত্র: স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উত্থাপিত অভিযোগ এবং প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত।