Tathyojora.news ঈশ্বরদীতে বিএনপির কোন্দল চরমে, হাবিবকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ পিন্টুর - Tathyojora.news

ঈশ্বরদীতে বিএনপির কোন্দল চরমে, হাবিবকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ পিন্টুর


নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ২:১৫ AM
ঈশ্বরদীতে বিএনপির কোন্দল চরমে, হাবিবকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ পিন্টুর

ঈশ্বরদীতে বিএনপির কোন্দল চরমে, পিন্টুকে গ্রেপ্তারের দাবি; কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ব্যর্থতা ও ইন্ধনের অভিযোগ অলিদ বিন সিদ্দিকের

পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর অনুসারীদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর মধ্যে হাবিবুর রহমান হাবিবকে গুলি করে হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগ তুলেছেন জাকারিয়া পিন্টু। অন্যদিকে, পিন্টুর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক বিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়দের একটি অংশ।

হাবিবুর রহমান হাবিবকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের পক্ষ থেকে মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার। এ ঘটনায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার বলেন, “বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে প্রাণনাশের হুমকির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। পাবনা-ঈশ্বরদীর শীর্ষ সন্ত্রাসী পিন্টু লাগামহীনভাবে সংগঠনবিরোধী নানান অপকর্মের ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। এসব বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সিন্ডিকেটের ইন্ধনকে পুঞ্জীভূত করেই শীর্ষ সন্ত্রাসী জাকারিয়া পিন্টু সাহসের সঙ্গে এসব ঘটিয়ে যাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “দলের হাইকমান্ডকে বারবার অবগত করার পরও বিএনপি হাইকমান্ড থেকে কোনো ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় আজ এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ দায়ভার এড়িয়ে যাওয়ার কোনোভাবেই সুযোগ নেই।”

বিএনপির সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার বলেন, “সাংগঠনিক চেইন কমান্ড ভেঙে পড়েছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী জাকারিয়া পিন্টুকে সাহস জুগিয়েছে দলের দুর্বল সাংগঠনিক ব্যবস্থা। এটিকে আমি দলের ব্যর্থতা হিসেবে দেখতে পাচ্ছি।”

জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত ২৮ অক্টোবর বিকেল ৩টায় একই সময়ে পৃথক কর্মসূচির ডাক দেয় দুই পক্ষ। এ পরিস্থিতিতে নিজের অনুসারীদের কর্মসূচি স্থগিত করার আহ্বান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন জাকারিয়া পিন্টু।

ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, একই সময়ে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হলে প্রতিপক্ষ ও ‘তথাকথিত হাইব্রিড নেতারা’ সংঘর্ষ বাধিয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে গুলি করে হত্যার পরিকল্পনা করেছে। পোস্টে তিনি লেখেন, “ওরা এক ঢিলে দুই পাখি মারবে-হাবিবও মরলো, জাকারিয়া পিন্টুসহ সবাই ধ্বংস হয়ে যাবে।” বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

অন্যদিকে, জাকারিয়া পিন্টুর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বিএনপির অপর একটি অংশ। তাদের দাবি, বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগে পিন্টু অতীতে একাধিকবার বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, সন্ত্রাস, গ্রুপিং ও চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, গত জাতীয় নির্বাচনে দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জাকারিয়া পিন্টু বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। এ ছাড়া অর্থের লেনদেন ও জামায়াতের সঙ্গে আঁতাতের মাধ্যমে হাবিবুর রহমান হাবিবকে পরাজিত করার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে তুলেছেন তাঁরা। এসব অভিযোগের বিষয়ে জাকারিয়া পিন্টুর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জাকারিয়া পিন্টুকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন নেতাকর্মীদের একটি অংশ।

স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধের সূত্রপাত দলীয় কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বলে জানা গেছে। গত ১৬ আগস্ট ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতে স্বাক্ষর করা হলেও ২২ আগস্ট তা ঘোষণা করা হয়। এরপর দুই পক্ষ পৃথক কমিটি ঘোষণা করলে বিরোধ আরও তীব্র হয়। বর্তমানে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যে ঈশ্বরদীর রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।