
ফুসফুসের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শৈশব থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য বর্জন এবং বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ব ফুসফুস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেন, মানুষের বেঁচে থাকার জন্য বিশুদ্ধ বায়ু অপরিহার্য। কিন্তু দূষিত বায়ু নিয়মিত গ্রহণের ফলে ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং বিভিন্ন ধরনের শ্বাসতন্ত্রের রোগ দেখা দিতে পারে। তাই আজীবন ফুসফুসের সুস্থতা নিশ্চিত করতে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের পাশাপাশি রোগ দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
‘A Lifetime of Lung Health’ বা ‘আজীবন ফুসফুসের সুস্বাস্থ্য’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকার রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের উদ্যোগে স্থানীয় একটি হোটেলে এ গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দ্য চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এবং অ্যারিস্টোফার্মা পিএলসির সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে মডারেটর হিসেবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকার রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ও কো-অর্ডিনেটর ডা. এস এম আব্দুল্লাহ আল মামুন।
প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ও ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক এবং চ্যাবের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. গোলাম সারওয়ার লিয়াকত হোসাইন ভূঁইয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমিম, এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকার রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডা. রৌশনী জাহান ও ডা. জিয়াউল হক।
এ ছাড়া আলোচনায় ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ রেজাউল হক, একই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আদনান ইউসুফ চৌধুরী, বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ, ইউনিকো হসপিটালস পিএলসির রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. মোহাম্মদ সানা উল্লাহ সরকার, জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসাইন, অ্যারিস্টোফার্মা লিমিটেডের মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস বিভাগের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, স্বাস্থ্যবিষয়ক সিনিয়র সাংবাদিক আতাউর রহমান কাবুল এবং চ্যানেল আইয়ের স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট জান্নাতুল বাকেয়া কেকা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডা. তানিয়া রহমান মিতুল।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, ফুসফুসকে সুস্থ রাখতে ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য থেকে দূরে থাকতে হবে। একই সঙ্গে পরিবেশের বায়ুদূষণ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। প্রচলিত তামাকপণ্যের পাশাপাশি ই-সিগারেট ও ভেপিংও ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর উল্লেখ করে এসব পণ্যের ব্যবহার বন্ধের ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
এ ছাড়া অন্যান্য নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার ও বিস্তার রোধেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। তাদের মতে, ফুসফুসের কোনো রোগের লক্ষণ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
বক্তারা আরও বলেন, ফুসফুসের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের কাছে নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যতথ্য পৌঁছে দিতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশুদ্ধ বায়ু নিশ্চিত করা, ক্ষতিকর তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্য থেকে বিরত থাকা এবং ফুসফুসের রোগ সম্পর্কে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়ার মতো পদক্ষেপগুলোই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ শ্বাসতন্ত্র নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :