
পতিত স্বৈরাচার ও নব্য স্বৈরাচার-দুই শক্তিকেই পরাজিত করার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগসহ চার দফা দাবিতে আয়োজিত গণবিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ ঘোষণা দেন। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এনসিপি এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
সমাবেশে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার ও তারেক রহমানের দেশ পরিচালনার কোনো পরিকল্পনা নেই। তাঁদের পরিকল্পনা দুর্নীতি, লুটপাট, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস কায়েমকে কেন্দ্র করে।
তিনি বলেন, হাজারো মানুষের রক্তের বিনিময়ে একটি স্বৈরাচারকে বিদায় করার পর এখন নতুন স্বৈরাচারের উত্থান দেখা যাচ্ছে। তবে পতিত স্বৈরাচার ও নব্য স্বৈরাচার-দুই স্বৈরাচারকেই পরাজিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে বলেও অভিযোগ করেন এনসিপি আহ্বায়ক। তিনি বলেন, সীমান্তে হত্যা, পাহাড়ে অশান্তি সৃষ্টি, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের নিপীড়ন এবং দিল্লিতে মসজিদ ভেঙে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। বাংলাদেশের হিন্দু ও মুসলমানদের নিয়েও ষড়যন্ত্র চলছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ভারতের এসব চক্রান্ত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে বর্তমান সরকার সক্ষম নয়।
ভারতের সঙ্গে করিডর ইস্যুতে নাহিদ ইসলাম বলেন, জাপানে গিয়ে আবারও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে করিডর তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। ভারতের হাতে অবৈধ করিডর তুলে দেওয়ার অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেবে না বাংলাদেশের জনগণ।
গঙ্গা চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরে গঙ্গা চুক্তি ন্যায্যতার ভিত্তিতে নতুন করে করা না হলে বাংলাদেশের জনগণ আবারও আন্দোলনে নামবে। এবার পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে এক বিন্দুও ছাড় দেওয়া হবে না।
দেশে চলমান নৈরাজ্য, খুন ও গুমের ঘটনার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেন তিনি।
দাবি আদায় না হলে সারা দেশে মিছিল ছড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, প্রয়োজনে সেই মিছিল নিয়ে তারেক রহমানকে ঘেরাও করে দাবি আদায় করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :